Sunday, March 12, 2017

অ্যাডসেন্স এর ফিচারসমূহ

অ্যাডসেন্স সম্পর্কে অনেকেই জানেন এবং অনেকেই অ্যাডসেন্স নিয়ে কাজও করেন। কিন্তু আপনি কি অ্যাডসেন্স এর ফিচারসমূহ সম্পর্কে জানেন? সাধারণত গুগল অ্যাডসেন্স কয়েকধরণের বিজ্ঞাপন দেখায় তবে অনেকেই একটি বা দুইটি সম্পর্কেই জানেন শুধু। আর অন্য ফিচারসমূহ ব্যবহার না করাতে লাভ হারাচ্ছেন। কারণ এই ফিচারগুলো তৈরিই করা হয়েছে আয় বাড়াতে। ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে ভিন্ন ভিন্ন ফিচারসমূহ কাজে আসতে পারে। আবার সকল অ্যাডসেন্স এর ফিচারসমূহ এর সফল ব্যবহার আপনাকে লাভবান করতে পারে।

অ্যাডসেন্স এর ফিচারসমূহ

আগেই বলেছি গুগল অ্যাডসেন্স কয়েকধরণের বিজ্ঞাপন দেখায়। এবং নিয়মিত নতুন বিজ্ঞাপনের ধরণের জন্যও তারা কাজ করে যাচ্ছে। সবসময়েই তারা চেষ্টা করছে পাবলিশারদেরকে আরো বেশী আয় করার সুযোগ করে দিতে। তাই এসকল ফিচারসমূহ এর ব্যবহার হতে পারে আপনার আয় বাড়াবার একটি উপায়। সেই সাথে নতুন কোন ফিচার আসলে সেসম্পর্কেও জেনে নেয়ার চেষ্টাও করা উচিৎ।

কনটেন্ট এর জন্য অ্যাডঃ সকলেই মূলত এই বিজ্ঞাপনটিই ব্যবহার করে থাকেন। ইমেইজ অথবা টেক্সট বেসড বিজ্ঞাপন যা আপনার ওয়েবসাইট এর যেকোনো স্থানে দেখানো যেতে পারে। গুগল অ্যাডসেন্স গ্রাহকদের প্রয়োজন বা ধরণ অনুসারে বিজ্ঞাপন নিয়মিত পরিবর্তন করে থাকে। আর এই গ্রুপে বেশ কয়েকরকম বিজ্ঞাপন দেখানো হয়। যেমন টেক্সট অ্যাড, ইমেইজ অ্যাড, এনিমেটেড অ্যাড, ভিডিও অ্যাড ইত্যাদি। টেক্সট অ্যাড ছাড়া অন্য অ্যাডগুলোকে ডিসপ্লে অ্যাড বলা হয়ে থাকে। অ্যাডগুলো বিভিন্ন সাইজের হতে পারে যেমন ৭২৮*৯০, ৩০০*২৫০, ৩০০*৬০০ ইত্যাদি। আবার কাস্টম আকারের প্রয়োজন হলে তাও সম্ভব যদিও সেই সাইজের অ্যাড সবসময় দেখানো যাবে এর নিশ্চয়তা থাকে না। আর বেশীরভাগ সময় কাস্টম সাইজ হলে টেক্সট বেসড অ্যাড দেখানো হয়ে থাকে।

লিংক অ্যাড ইউনিটঃ মূলত এই বিজ্ঞাপনটিও কনটেন্ট এর জন্য কিন্তু সাধারণ বিজ্ঞাপনগুলোর থেকে একটু ভিন্ন। মূলত অনেকটা মেনুর মতো বা অ্যাংকর টেক্সট এর মতো কিছু লিংক থাকে। ওয়েবসাইট এর কনটেন্ট থেকে কিছু কীওয়ার্ড নিয়ে সেই কীওয়ার্ডগুলোকেই লিংক বা মেনু হিসেবে দেখানো হয়। এর সুবিধা হচ্ছে কেউ যদি এই লিংক এ ক্লিক করে তবে পরের পেইজে সেই কীওয়ার্ড এর সাথে বা সেই বিষয়ের অনেকগুলো বিজ্ঞাপন দেখবে। আর বিজ্ঞাপনগুলো হবে অনেকটা গুগল এর সার্চ রেজাল্ট পেইজ এর মতোই। ফলে ক্লিক করার সম্ভাবনা অনেকটা বেড়ে যায়। আর সাধারণত এধরণের বিজ্ঞাপনের সিপিসি অনেক বেশী হয়ে থাকে। এর কারণও আছে। একটি কীওয়ার্ডে কেউ তখনই ক্লিক করবে যখন আগ্রহ থাকবে। আর এসকল ক্লিকই বেশী ইম্পরট্যান্ট।

অ্যাডসেন্স সার্চ অ্যাডঃ অনেক ওয়েবসাইটেই হয়তো কাস্টম সার্চ এর গুগল সার্চ বক্স দেখেছেন। ঠিক এরকমই অ্যাডসেন্স এর সার্চ বক্স রয়েছে। যেখানে কিছু সার্চ করা হলে মূলত সেটা সেই কীওয়ার্ড এর উপর থাকা বিজ্ঞাপন সার্চ করে দেখায়। আর যেহেতু কেউ একজন কীওয়ার্ডটি সার্চ দিচ্ছে ফলে তার অবশ্যই বিষয়টির উপর আগ্রহ আছে। এবং এর উপর থাকা বিজ্ঞাপনেও সে ক্লিক করবে। তাই এই বিজ্ঞাপনকে ছোট করে দেখার কিছু নেই। লিংক অ্যাড এর মতোই এই অ্যাডও একই ভাবে কাজ করে এবং সফলতার হার সাধারণ অ্যাড বা কনটেন্ট অ্যাড এর থেকে অনেক বেশী।

ভিডিও এর জন্য অ্যাডঃ এই বিজ্ঞাপনগুলো মূলত যেসকল ওয়েবসাইট এ ভিডিও আছে সেগুলোর জন্য। অর্থাৎ আপনার ওয়েবসাইট যদি হয় ভিডিও ভিত্তিক তবে এই অ্যাড ব্যবহার করতে পারেন। এই অ্যাড অনেকটাই ইউটিউব এর বিজ্ঞাপনের মতোই। এবং একই ফিচার। তবে অবশ্যই যদি আপনার ভিডিও কনটেন্ট ইউনিক হয় তবেই এই বিজ্ঞাপন ব্যবহারের অনুমতি পাবেন।

গেমস এর জন্য অ্যাডঃ  যদি আপনার ওয়েবসাইট বা কনটেন্ট হয় গেম অর্থাৎ কেউ যদি আপনার তৈরি করা গেম অনলাইনে খেলতে সক্ষম হয় তবে তাদেরকেই আপনি বিজ্ঞাপন দেখাতে পারবেন। যেমন ওয়েবসাইট ভিত্তিক ফ্ল্যাশ গেম। তবে অবশ্যই অনলাইনে খেলা সম্ভব এরকম গেম হতে হবে। যদি আপনার এরকম ওয়েবসাইট থাকে তবে এই ফিচার গ্রহণ করতে পারেন।

অ্যাডসেন্স পেইজ লেভেল অ্যাডঃ এই বিজ্ঞাপনটি নতুন এবং এখনো সবার জন্য উন্মুক্ত হয়নি। শুধু কিছু ওয়েবসাইটকেই এই অ্যাড এর সুবিধা গ্রহণ করতে দেয়া হচ্ছে। মূলত মোবাইল ট্র্যাফিক এর জন্যই এই অ্যাড। যদি আপনি এই অ্যাড ব্যবহার করে থাকেন তবে আপনার ওয়েবসাইট এর মোবাইল ভিজিটর এই অ্যাড দেখতে পারবে। যেহেতু এখন উন্নত মোবাইল বা ডিভাইসের কারণে বেশীরভাগ ভিজিটরই আসে এসকল ডিভাইস থেকে তাই এই অ্যাড এর সফলতাও অনেক ভালো। যদি আপনি এই অ্যাড ফিচারের আওতাভুক্ত হয়ে থাকেন অর্থাৎ গুগল আপনার ওয়েবসাইট ব্যবহারের অনুমতি দেয় তবে অবশ্যই এই অ্যাড ব্যবহার করতে ভুলবেন না।

অ্যাডসেন্স এবং কয়েকটি উত্তর

অ্যাডসেন্স নিয়ে অনেকের মনেই অনেক প্রশ্ন জমে আছে। আর এর বেশীরভাগ প্রশ্নই খুবই কমন। প্রায় সবারই একই প্রশ্ন এবং সেগুলোরই উত্তর দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এখানে। যদি অন্য কোন প্রশ্ন আপনার জানার থাকে আমাদেরকে প্রশ্ন করতে পারেন। যতদ্রুত সম্ভব আমরা উত্তর দেয়ার চেষ্টা করবো।

  • অ্যাডসেন্স থেকে প্রতি ১০০০ ভিজিটরে কতো আয় করা সম্ভব?
  • ০.০০ থেকে ১০০০.০০ ডলার। নির্ভর করে বিজ্ঞাপনের অবস্থান (Placement), ওয়েবসাইট এর বিষয় সহ আরো প্রায় ১০০ এর মতো বিষয়ের উপর। তাই এই প্রশ্ন সম্পূর্ণই অনর্থক। কতো আয় করা যাবে সে চিন্তা না করে কতোভালো কনটেন্ট (Content) দিয়ে কতটুকু সফল ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন সেটা চিন্তা করা অনেক বেশী ভালো।

  • শুধু অ্যাডসেন্স এর উপর ভরসা করা সম্ভব?
  • আমি মনে করি শুধু অ্যাডসেন্স এর উপর ভরসা না রেখে পাশাপাশি দ্বিতীয় আয়ের ব্যবস্থা করা রাখা উচিৎ। কেনোনা ছোট ভুলেও অনেক সময় বড় ক্ষতি হতে পারে আর ভুল যেকোনো সময় হতে পারে যেকোনো ক্ষেত্রে। আর সে কারণেই আমি নিজেও অন্য কাজও করি।

  • অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট বাতিল হলে কি ফিরে পাওয়া সম্ভব?
  • অনেক সময় সম্ভব। এক্ষেত্রে যদি নিরীহ কোন ভুলের কারণে বাতিল করা হয় তবে সেই ভুল সংশোধন করে আপিল (Appeal) করতে হবে। যদিও এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী অবস্থা। তবে যদি আপনি নিশ্চিত থাকেন আপনার তেমন কোন ভুল নেই তবে হয়তো ফিরে পাবেন।

  • গুগল অ্যাডসেন্স এর জন্য অ্যাপ্লাই করতে আমার কি কি থাকতে হবে?
  • প্রথমেই আপনার একটি ওয়েবসাইট থাকতে হবে। তবে যদি আপনার ওয়েবসাইট মাত্র তৈরি হচ্ছে পর্যায়ে থাকে অথবা কয়েক লাইনের কনটেন্ট দিয়ে ভরা থাকে তবে অবশ্যই তা কার্যকর নয়। সোজা কথায় যখন কোন ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইট এর কনটেন্ট দেখতে আসবে তাকে যেন পর্যাপ্ত কনটেন্ট না পেয়ে চলে যেতে না হয়। যদি আপনার ওয়েবসাইট এ মাত্র একটি পেইজ থাকে কিন্তু সেই কনটেন্ট যদি ভিজিটরের জন্য যথেষ্ট হয় তবেও হবে। অর্থাৎ পরিপূর্ণ কনটেন্ট থাকা একটি ওয়েবসাইট আপনার প্রয়োজন পরবে। একই সাথে মনে রাখতে হবে আপনার ওয়েবসাইট থাকলেই চলবে না, কনটেন্ট হতে হবে সম্পূর্ণ ইউনিক। অর্থাৎ অন্য কোথাও থাকা কনটেন্ট কপি করে নিয়ে আসলে চলবে না। যদি এসকল শর্ত পূরণ হয়ে থাকে তবে আপনি অ্যাডসেন্স এর জন্য অ্যাপ্লাই করতে প্রস্তুত।

  • আমার ওয়েবসাইট এ কোন এসইও করা নেই, এতে কি কোন সমস্যা হবে?
  • এসইও (SEO) করতেই হবে এমন কথা নেই। তবে আপনার ওয়েবসাইট এ যদি ভিজিটর না থাকে তবে আপনার অ্যাডসেন্স এর কোন মূল্য নেই। তাই এসইও করাটা জরুরী। তবে আপনি যদি অন্য কোন ভাবে ভিজিটর ব্যবস্থা করতে পারেন তাতেও চলবে। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি বলবো এসইওতে জোর দেয়া উচিৎ হবে অ্যাডসেন্স এ সফল হতে।

  • আমার ওয়েবসাইট এ ভিজিটর খুবই কম, আমি কি অ্যাডসেন্স পাবো?
  • গুগল অ্যাডসেন্স দেয়ার ক্ষেত্রে প্রতিদিন কতো ভিজিটর আসছে তা দেখে না। আপনার ওয়েবসাইট এ যদি প্রতিদিন ৫/১০ জন ভিজিটর থাকে তাহলেও আপনি অ্যাডসেন্স এর জন্য আপ্প্রভাল পেতে পারেন। তবে ভিজিটরের পরিমাণ যতো বাড়াতে পারবেন ততোই আপনার জন্য ভালো। যেহেতু অ্যাডসেন্স এর আয়ও নির্ভর করে ভিজিটরের উপর।

  • Payee Name এর সাথে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এর নামের কি মিল থাকতে হবে?
  • উত্তরঃ যদি আপনি চেক এর মাধ্যমে আপনার আয়কৃত অর্থ পেতে চান তবে অবশ্যই মিল থাকতে হবে। কেনোনা ব্যাংক অন্য নামের চেক গ্রহণ করবে না। তবে যদি ওয়্যার ট্রান্সফার এর মাধ্যমে নিতে চান তবে আপনি যখন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যুক্ত করবেন সেখানে অ্যাকাউন্ট কার নামে রয়েছে তা উল্লেখ করতে পারছেন এবং যার নামেই হোক না কেন অর্থ পাবেন। (আমি দুইটি ভিন্ন অ্যাকাউন্ট এ অর্থ গ্রহণ করেছি যা আমার নামে নয়)

  • কোন স্থান থেকে লেখা কপি করে সোর্স দিলে সমস্যা হবে কি?
  • আপনি চাইলে উইকিপিডিয়া থেকেও লেখা কপি করতে পারেন যেহেতু উইকিপিডিয়া তা অনুমতি দেয় কিন্তু গুগল অ্যাডসেন্স এগুলোকে কপি (চুরি) হিসেবেই ধরবে। এবং এরকম অতিরিক্ত কনটেন্ট থাকলে গুগল অবশ্যই আপনার ওয়েবসাইটকে অ্যাডসেন্স এর উপযুক্ত হিসেবে স্বীকার করবে না। তাই এরকম কনটেন্ট সোর্স সহ দিলেও অ্যাডসেন্স এর ক্ষেত্রে আপনার সম্ভাবনা কম।

  • যদি কেউ ওয়েবসাইট এর সকল বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে তবে সমস্যা হবে কি?
  • যদি কোন মানুষ প্রয়োজনেই বিজ্ঞাপনগুলোতে ক্লিক করে তবে কোন সমস্যা নেই। তবে যদি কোন সফটওয়্যার দিয়ে অথবা কেউ ইচ্ছেকৃতভাবেই তা করে তবে অবশ্যই সমস্যা হবে। মনে রাখতে হবে কিছু সাধারণ ম্যাথ ব্যবহার করে গুগল সহজেই ধরতে পারবে কোন ক্লিক সঠিক কোনটি নয়। কে প্রয়োজনে ক্লিক করেছে এবং কে অপ্রয়োজনে।

  • অ্যাডসেন্স থেকে আসা ইমেইলগুলো কি প্রয়োজনীয়?
  • আমার দেখা মতে সকল ইমেইলে অনেক তথ্য, টিপস থাকে। সেই সাথে সাসপেন্ড হলে যেই ইমেইল গুগল পাঠায় তাতে খুব সাধারণভাবে সমাধান উল্লেখ্য করা থাকে। তাই এসকল ইমেইল আমার কাছে সবসময়েই গুরুত্বপূর্ণ। এবং আপনি সবসময়েই এসকল ইমেইল মনোযোগের সাথেই দেখি।

ইউটিউব থেকে অর্থ আয় নিয়ে কিছু টিপস

ইউটিউব থেকে অর্থ আয় করা যায় তা এখন প্রায় সবাই কম বেশী জানেন। আসলেই তা যায় বলেই প্রায় অনেকেই ইউটিউব থেকে আয় করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে যাচ্ছে। তবে ইউটিউব এ ভিডিও আপলোড করলেই আয় হবে তা কিন্তু নয়। এতোটা সহজ হলে প্রায় শব্দটাই থাকতো না। আর ভালো ভিডিও আপলোড করলেই আয় করা যাবে তা ভাবাও ভুল। চলুন এসকল ব্যাপারেই আজ জেনে নেই কিভাবে ইউটিউব থেকে অর্থ আয় করতে নামতে হবে।

ইউটিউব থেকে অর্থ আয় নিয়ে কিছু টিপস


  • নতুন আকর্ষণীয় এবং পরিপূর্ণ একটি ইউটিউব প্রোফাইল তৈরি করুনঃ
যেহেতু আয় করতেই আপনি নামতে চাচ্ছেন সেহেতু এমন একটি ইউটিউব প্রোফাইল তৈরি করুন যা ব্যবহারকারীকে আকর্ষণ জাগাতে সক্ষম হবে। কেনোনা ব্যবহারকারীই হবে আপনার আয়ের মূল উৎস। আর যখন আপনি কোন ভাবে ব্যবহারকারীকে আপনার ভিডিও দেখার জন্য আমন্ত্রণ জানাবেন, তারা হয়তো ভিডিও দেখার পর আরো জানতে বা আরো ভিডিও দেখতে আপনার প্রোফাইল ঘুরে দেখতে যাবে। আর যদি তা পরিপূর্ণভাবে সম্পূর্ণ করা না থাকে তবে পরবর্তীতে আরো ভিডিও দেখার জন্য সাবস্ক্রাইব করতে আগ্রহী হবে না। তবে অতিরিক্ত তথ্য ব্যবহার না করাই ভালো। সংক্ষিপ্ত কিন্তু আকর্ষণীয় প্রোফাইল ব্যবহারকারীদের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য যথেষ্ট।

  • সাধারণ ভিডিও তৈরি করুনঃ
আপনি যদি মনে করেন প্রফেশনাল ভিডিও না হলে ইউটিউব থেকে আয় করা যাবে না তাহলে তা হবে আপনার ভুল। মোটামুটি কোয়ালিটির ভিডিও এবং ভালো সাউন্ড কোয়ালিটির হলেও আপনি আয় করার জন্য প্রস্তুত। এবং সবসময় যে হাই-ডেফিনেশন (HD) এর ভিডিওই হতে হবে তাও কিন্তু নয়। হলে ভালো কিন্তু নরমালি ভালো কোয়ালিটির ভিডিও হলেও সমস্যা নেই। আর চেষ্টা করতে হবে ভিডিও যেন সাধারণ দীর্ঘের হয়। সাধারণত ৩ থেকে ৮ মিনিটের ভিডিও ব্যবহারকারীরা বেশী পছন্দ করবে। বেশী দীর্ঘের না হলে তাই আপনার জন্যই ভালো।

  • ভিডিওতে সাবস্ক্রাইব করুন বাটন যুক্ত করুনঃ
আপনি নিয়মিত ইউটিউব ব্যবহার করে থাকলে অবশ্যই লক্ষ্য করেছেন অনেক ভিডিওতে ভিডিও এর উপরেই বিভিন্ন মেসেজ দেখায়। যেমন পরের ভিডিও দেখুন বা সাবস্ক্রাইব করুন এবং সেখানে ক্লিক করলে অন্য কোন ভিডিওতে বা চ্যানেলে নিয়ে যায়। আপনিও এরকম বাটন রাখতে পারেন। এগুলোকে মূলত কার্ড বলা হয়। এর মাধ্যমে আপনি আপনার ভিডিওগুলোর ভিউ বাড়াবার পাশাপাশি সাবস্ক্রাইবার বাড়াতে পারেন। ভিডিও এডিটের অপ্সহন থেকেই এগুলো যুক্ত করতে পারবেন।

  • নিয়মিত ভিডিও আপলোড করুনঃ
আপনি যতো বেশী নিয়মিত ভিডিও আপলোড করবেন ততো বেশী ব্যবহারকারী বাড়তে থাকবে কেনোনা তারা জেনে যাবে তাদের জন্য আপনি নিয়মিত নতুন কিছু নিয়ে আসবেন। ফলে আপনার ভিডিও দেখার জন্যই তারা আপনার চ্যানেলে নিয়মিত হতে চাইবেই। যা আপনার আয় বাড়াতেই কার্যকর। তাই অন্তত সপ্তাহে একটি নতুন ভিডিও আপলোড করার চেষ্টা করুন। হয়তো মাঝেমধ্যে তা কয়েকদিন বেশী লাগতে পারে তাও চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

  • নিয়মিত শেয়ার করুনঃ
আপনার ফেসবুক বা টুইটার প্রোফাইল বা পেইজে নিয়মিত ভিডিও শেয়ার করুন। এতে আপনার ভিডিওসমূহের ভিউ বাড়তে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। আর অনেক সময় আপনার প্রোফাইল এর শেয়ার থেকে অন্যরাও শেয়ার করতে থাকবে যা আরো ব্যবহারকারী বাড়াতে পারবে। আর চ্যানেলের জন্য আলাদা ফেসবুক পেইজ এবং টুইটার প্রোফাইল রাখতে পারেন। আর চ্যানেলের সাথে মিল রেখে সেগুলোর ডিজাইনও সম্পূর্ণ করতে পারেন। যা আসলেই কার্যকর।

  • ব্যবহারকারীদের খুশি করুনঃ
ব্যবহারকারীরা যে শুধু ভিডিও দেখে চলে যাবে তা নয়। সবসময়েই চেষ্টা করুন তাদেরকে খুশি করতে। তাদের যা প্রয়োজন তা যেন আপনার ভিডিওতে অবশ্যই পায়। সেই সাথে তাদের সকল প্রশ্ন বা মন্তব্যের উত্তর দিন। এতে তাদের বিশ্বাস আরো বাড়বে যা বারবার ফিরে আসতে তাদেরকে বাধ্য করবে। আর মনে রাখতেই হবে তারা যতো ফিরে আসবে ততোই আপনার আয় বৃদ্ধি পাবে।

  • আপনার ভিডিও সার্চের উপযোগী করুনঃ
আপনার ভিডিও যতো বেশী সার্চে খুঁজে পাওয়া যাবে ততোই বেশী ব্যবহারকারী ভিডিও দেখতে আসবে। তাই সবসময় চেষ্টা করতে হবে সার্চের উপযোগী করে ভিডিও আপলোড করতে। এক্ষেত্রে অন্যদের থেকে ভিন্ন কিন্তু সার্চে ব্যবহার করা হতে পারে এমন টাইটেল দিন। ভিডিও এর ডেসক্রিপশনেও কিওয়ার্ড ব্যবহার করুন এবং কাছাকাছি বেশ কিছু শব্দকে ট্যাগ হিসেবে ব্যবহার করুন। সেই সাথে সঠিক ক্যাটাগরিতে ভিডিও আপলোড করুন। এতে আপনার ভিডিও ব্যবহারকারীরা সহজেই সার্চ করে খুঁজে পাবে এবং আপনার ভিউয়ার বৃদ্ধি পাবে।

  • পূর্বের সাথে তুলনা করুনঃ
গতকাল কি হয়েছে এবং আজ কি হচ্ছে, লক্ষ্য করুন। সবসময়েই খুঁজে বের করুন কোন কাজটি বা কোন ভিডিওটি আপনাকে বেশী সফল করে তুলতে সক্ষম হচ্ছে। সেই সাথে কি কারণে আপনি অসফল হচ্ছেন। এসকল বিষয় নিয়মিত লক্ষ্য রাখতে পারলে আপনি আগামীতে আরো সফল কিছু নিয়ে আসতে পারবেন যা আপনাকে অবশ্যই সফল করে তুলতে সহায়ক হবে। তাই নিয়মিত ব্যবধান সমূহে লক্ষ্য রাখুন। সফলতা আসলে কঠিন কিছু না শুধু লক্ষ্য রাখতে পারলেই হয়।

  • নিয়মিত চোখ রাখুন এখানেঃ
আপনার ইউটিউব থেকে অর্থ আয় এর ক্ষেত্রে যাত্রা যদি এখান থেকে শুরু হয় বা কোন ভাবে কোনোরকম সহযোগিতা পেয়ে থাকেন তবে এখানে নিয়মিত চোখ রাখুন। যাতে আমরা আপনাকে আরো এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করতে পারি। কেনোনা আপনারা যতো এখানে আসবেন আমরা ততোই আপনাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করবো।

অ্যাডসেন্স থেকে কতো আয় করা সম্ভব

অ্যাডসেন্স থেকে কতো আয় করা সম্ভব? অ্যাডসেন্স নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের প্রায় সকলেই এই প্রশ্নটি সবচেয়ে বেশী শুনে থাকেন। প্রশ্নটি যদিও সঠিক এবং সকলের জানতে চাওয়ার যুক্তিও আছে। কিন্তু এর সঠিক উত্তর দেয়া এক অর্থে অসম্ভব। কারণ অ্যাডসেন্স থেকে কতো আয় করা সম্ভব তা অনেক কিছুর উপর নির্ভর করে। অ্যাডসেন্স অনেকগুলো ভিন্ন ভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে অর্থ প্রদান করে। আর এক একটি ওয়েবসাইট এ বিষয়গুলো এক এক রকম হতে পারে। ফলে একই রকম ওয়েবসাইট হলেও আয় ভিন্ন হতে পারে।
ধরুন আপনার দুইটি ওয়েবসাইটে অ্যাডসেন্স আছে। দুইটি ওয়েবসাইটই ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ের উপর তৈরি করা। কিন্তু দৈনিক ভিজিটর এর পরিমাণ একই। পেইজভিউও একই। তবুও আপনি দুইটি ওয়েবসাইট এর আয়ের দিকে অনেক পার্থক্য দেখতে পারেন। আবার এমনও হতে পারে কম ভিজিটর থাকা সত্ত্বেও আয় বেশী কিন্তু বেশী ভিজিটর থাকলেও তেমন আয় হচ্ছে না।

অ্যাডসেন্স থেকে কতো আয় করা সম্ভব


চলুন বুঝে নেই অ্যাডসেন্স এর আয় কিভাবে নিরূপণ করা হয়। এতে আপনি বুঝতে পারবেন কেন বলা সম্ভব না যে অ্যাডসেন্স থেকে কতো আয় করা সম্ভব হতে পারে।
ধরুন দুইটি ওয়েবসাইট এ ভিন্ন ভিন্ন ধরণের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা হয়। একটিতে সাবানের বিজ্ঞাপন এবং অন্যটিতে মোবাইল ফোনের বিজ্ঞাপন। এখন লক্ষ্য করুন যদি একটি সাবান বিক্রয় হয় তবে সাবান প্রস্তুতকারকের হয়তো খুবই অল্প লাভ হবে কিন্তু সে তুলনায় মোবাইল ফোন প্রস্তুতকারকের বেশীই লাভ হবে। যেহেতু মোবাইল ফোন প্রস্তুতকারকের লাভ বেশী কিন্তু সে তুলনায় বিক্রয় সাবানের তুলনায় তুলনামুলক কম সেহেতু সে একটু বেশী অর্থ প্রদান করতে পারছে বিজ্ঞাপনগুলো বেশী দেখানোর জন্য। আর সাবান প্রস্তুতকারী কোম্পানি অবশ্যই তাদের লাভের থেকেও বেশী অর্থ বিজ্ঞাপনে ব্যয় করতে পারবে না। তাই আপনার ওয়েবসাইটে যদি মোবাইল ফোনের বিজ্ঞাপন দেখার জন্য উপযুক্ত স্থান হয় আপনি বেশী অর্থ পাবেন কিন্তু সাবানের বিজ্ঞাপনের জন্য উপযুক্ত হলে কম অর্থ পাবেন।
সুতরাং আপনার আয় কতো হতে পারে তা নির্ভর করছে আপনার ওয়েবসাইটের কনটেন্ট এর উপর। তবে শুধু কনটেন্ট নয়। আপনার ওয়েবসাইট এর পেইজভিউয়ের উপরও এটা নির্ভরশীল। আপনার ওয়েবসাইট এ প্রতিদিন কতো ভিজিটর আসছে, কতবার বিজ্ঞাপন প্রদর্শন হচ্ছে এবং কতগুলো ক্লিক বিজ্ঞাপনে পড়ছে সেটাও নির্ভর করছে অ্যাডসেন্স থেকে কতো আয় হতে পারে সে বিষয়ে।

আরো কি কি বিষয় অ্যাডসেন্স থেকে আয়ে পরিবর্তন আনতে পারে?


উপরের বিষয়টি মূল বিষয় হলেও আরো কিছু বিষয় রয়েছে যার কারণে আপনার আয়ে পরিবর্তন হতে পারে। যেমনঃ
বিজ্ঞাপনের স্থানঃ মূলত স্থান অনুসারেও অনেক সময় বিজ্ঞাপনদাতারা ভিন্ন ভিন্ন অর্থ প্রদান করে। যেমন উপরের দিকে থাকা বিজ্ঞাপনগুলোতে আয় বেশী হলেও নিচের দিকে থাকা বিজ্ঞাপন থেকে আপনি অনেক কম অর্থ পেতে পারেন।
অবস্থানঃ ভিজিটরের অবস্থান অনুসারেও আপনার আয় পরিবর্তন হতে পারে। যেমন বাংলাদেশের ভিজিটর হলে আপনি হয়তো কম অর্থ পাবেন কিন্তু কানাডার হলে এর থেকে বেশী অর্থ পাবেন। এটা মূলত বিজ্ঞাপনদাতারা তাদের প্রয়োজনমতোই পরিবর্তন করে থাকে।
বিজ্ঞাপনের ধরণঃ বিজ্ঞাপনের ধরণ অনুসারেও আয়ে পরিবর্তন আসতে পারে। যেমন অনেকসময় একই বিষয়ের বিজ্ঞাপন হলেও গ্রাফিক্স থাকা বিজ্ঞাপনে বিজ্ঞাপনদাতারা বেশী অর্থ প্রদান করে টেক্সটভিত্তিক বিজ্ঞাপনের তুলনায়।

এছাড়াও আরো অনেক ফ্যাক্ট রয়েছে যা অ্যাডসেন্স এর আয়ের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে যা আপনার পরবর্তীতে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। আজ এ পর্যন্তই।

অ্যাডসেন্স অবৈধ ক্লিক (INVALID CLICK)

অনেক আগে থেকেই অ্যাডসেন্স অবৈধ ক্লিক যাচাই বাছাই করা হলেও তা সম্পর্কে কোন রিপোর্ট দেয়া হতো না কিন্তু বর্তমানে তা রিপোর্টে দেখানো হয়। আর এরপর থেকেই অনেকেই এ বিষয়ে ভয় পাচ্ছেন এবং সঠিক নিয়ম কানুন অনুসরণ না করার কারণে আয়কৃত অর্থ হারাচ্ছেন। তাই আসুন জেনে নেই অ্যাডসেন্স অবৈধ ক্লিক আসলে কি এবং কিভাবে তা কমানো যায়।

অ্যাডসেন্স অবৈধ ক্লিক কি?

যদি কোনভাবে কোন মিথ্যে ক্লিক বা ইমপ্রেশন এর জন্য বিজ্ঞাপনদাতাদের থেকে অর্থ নেয়া হয় যা অবৈধ অর্থাৎ ক্লিকটি ইচ্ছেকৃত ভাবে শুধু আয় বাড়াতে করা তখন তা অবৈধ ক্লিক হিসেবে গ্রহণ করা হবে। একই সাথে যদি কোন সফটওয়্যার ওয়েবসাইট ভিজিট করে তবে সে সময়ে ঘটে যাওয়া ইমপ্রেশনকেও অবৈধ হিসেবে ধরা হবে।  সোজা কথায় আয় বাড়াতে বিজ্ঞাপনে ক্লিক ঘটানো হতে পারে অবৈধ ক্লিক। আবার ভুল বশত ঘটে যাওয়া ক্লিকও অবৈধ ক্লিক।
যেসকল কারণে অবৈধ ক্লিক হতে পারেঃ
  • যদি ওয়েবসাইটের মালিক নিজের ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপনে ভুলবশত ক্লিক করে,
  • এক বা একাদিক ব্যক্তি যদি একই বিজ্ঞাপনে বারবার ক্লিক করতে থাকে,
  • ভুল স্থানে বিজ্ঞাপন প্রতিস্থাপন করার মাধ্যমে যদি ব্যবহারকারীদেরকে বিজ্ঞাপনে ক্লিক করানো হয়,
  • কোন সফটওয়্যার বা টুলস ব্যবহার করে যদি ক্লিক করানো হয়,
  • যদি বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার জন্য ব্যবহারকারীদের অনুরোধ করা হয়।

এছাড়াও আরো কারণ থাকতে পারে। তবে আমার দেখায় এখানের ৩ নং পয়েন্ট এর কারণে সবচেয়ে বেশী অবৈধ ক্লিক ঘটেছে। তাই এদিকে লক্ষ্য রাখা সবচেয়ে বেশী ইম্পরট্যান্ট। যেকোনো অবৈধভাবে অ্যাডসেন্স এর ক্লিক বাড়াতে চেষ্টা করা হলে সেটা Invalid Click হতে পারে। এতে আপনার অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড অথবা বাতিল হতে পারে। তাই এক্ষেত্রে অবশ্যই লক্ষ্য রাখা উচিৎ। গুগল জানে যে বিজ্ঞাপনে ক্লিক করবে তৃতীয় পক্ষ। যেখানে আপনার হাত নেই তবুও এটা বন্ধ করার দায়িত্ব আপনাকেই দিয়ে রেখেছে। এবং সঠিক নিয়ম অনুসরণ করে আপনি তা বন্ধ করতে পারেন বলেই গুগল এখানে দায়মুক্ত।

কিভাবে অ্যাডসেন্স অবৈধ ক্লিক প্রতিরোধ করবেন

এখন যেহেতু আপনি জানেন যে অ্যাডসেন্স অবৈধ ক্লিক এর জন্য আপনাকেই দায়ী করা হবে সুতরাং কোন কারণে যদি আপনার চোখে সন্দেহজনক কিছু পরে তবে সাথে সাথেই আপনি গুগলকে জানাতে পারেন। গুগল কে জানাতে এখানে ক্লিক করুন।
আর নিচের উল্লেখিত বিষয়গুলো নিয়মিত নিরীক্ষা এবং সমাধান করার মাধ্যমে আপনি অ্যাডসেন্স অবৈধ ক্লিক প্রতিরোধ করতে পারবেন।
  • আপনার ওয়েবসাইট এর ভিজিটর সোর্স এবং এবং ব্যবহারকারীদের গতিবিধি লক্ষ্য করুন। এর জন্য চাইলে আপনি অ্যাডসেন্স কাস্টম চ্যানেল, ইউআরএল চ্যানেল ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন। এতে আপনি জানতে পারবেন কোন সোর্স থেকে আসা ভিজিটর আপনার অ্যাডসেন্স আয়ে কীরূপ পার্থক্য আনতে পারে। এবং একই সাথে Google Analytics ব্যবহার করে আপনি আপনার ওয়েবসাইট এর ব্যবহারকারীদের সম্পর্কে আরো বেশী জানতে পারবেন। একই সাথে তাদের সন্দেহজনক গতিবিধি সম্পর্কেও।
  • অনিশ্চিত বা নিরাপদ কিনা তা নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য নেই এরকম থার্ডপার্টি বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক এবং ট্র্যাফিক সোর্স ব্যবহার করা থেকে সচেতন থাকুন। কারণ অনেক সময় এসকল থার্ডপার্টি বিজ্ঞাপন এর কারণে এবং একই সাথে এসকল ওয়েবসাইট থেকে আসা ব্যবহারকারীদের কারণেও অবৈধ ক্লিক হতে পারে। যেমন পপ-আপ বিজ্ঞাপন বন্ধ করতে গিয়ে কেউ আপনার অ্যাডসেন্স বিজ্ঞাপনে ক্লিক দিয়ে বসলো।
  • কোনভাবেই নিজের ওয়েবসাইট এর বিজ্ঞাপনে ক্লিক করা যাবে না। যদিও গুগল এই ক্লিক ফিল্টার করবে তবুও এটি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। যদি আপনার কাছে মনে হয় বিজ্ঞাপনটি আপনার কাজের এবং আপনি আসলেই বিজ্ঞাপনটিতে ক্লিক করতে চান লিংক এ যাওয়ার জন্য সেক্ষেত্রে আপনি গুগল এর অ্যাডসেন্স পাবলিশার টুলবার ব্যবহার করতে পারেন। এতে আপনি বিজ্ঞাপনে ক্লিক না করেও বিজ্ঞাপন দেখার জন্য লিংক পেয়ে যাবেন। ফলে অবৈধ ক্লিক এর সম্ভাবনা থাকবে না।
  • ওয়েবসাইট এ অ্যাডসেন্স কোড ব্যবহার করার পর বারবার চেক করুন সঠিক অ্যাড কোড বসিয়েছেন কিনা। এবং একই সাথে নিশ্চিত হন কোড বসানোতে কোন ভুল আছে কিনা, সঠিক স্থানে কোড বসানো হয়েছে কিনা এবং সব কিছুই নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে কিনা।
  • অ্যাডসেন্স সেটিংস থেকে authorized sites ফিচার ব্যবহার করুন। এতে আপনার ওয়েবসাইট ছাড়া অন্য কোন ওয়েবসাইট এ আপনার অ্যাডসেন্স কোড ব্যবহার না হওয়া থেকে বাঁচতে পারবেন। মূলত অনেকসময় অনেক ওয়েবসাইট ওয়েবসাইট থেকে তথ্য নিতে পারে। একই সাথে আপনার ওয়েবসাইট এ থাকা অ্যাড কোডও। আর এতে ভায়োলেশন তৈরি হতে পারে।
  • সবচেয়ে বেশী নজর দেয়া উচিৎ বিজ্ঞাপন বসানোর স্থানের দিকে। যদি আপনি এমন স্থানে অ্যাড কোড বসান যেখানে ভুলবশত বিজ্ঞাপনে ক্লিক পড়ার সম্ভাবনা থাকে তবে Invalid Click সবচেয়ে বেশী হবে। কেনোনা ভুলে ক্লিক করে ফেললে অবশ্যই ব্যবহারকারী সাথে সাথেই ব্যাক বাটনে ক্লিক করবে ফিরে আসতে। যেহেতু বিজ্ঞাপনের ওয়েবসাইটটির প্রতি তার আগ্রহ নেই সেহেতু এটাই স্বাভাবিক। অথবা সে ট্যাব বা ব্রাউজারটি বন্ধই করে দিবে। আর এটাই অবৈধ ক্লিক হিসেবে গণ্য হবে। মনে রাখা উচিৎ শুধু ক্লিক হলেই তা আপনার আয় হিসেবে ধরবে না গুগল। শুধু ক্লিকের উপর ভিত্তি করেও গুগল কোন অর্থ প্রদান করে না। সুতরাং ক্লিক বাড়ানোর চেষ্টা করাটা আপনার আয় কমার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ইন্টারনেটে অর্থ আয়ে ইনভেস্ট

ইন্টারনেট এর মাধ্যমে অর্থ আয়ের ব্যাপারে অনেক বিজ্ঞাপন দেখা যায় যেখানে বলা হয় কিছু টাকা ইনভেস্ট করার ব্যাপারে। বলা হয় ইনভেস্ট করার কিছুদিন পর তার টাকা ডাবল হয়ে যাবে বা এরকম অফার। এর থেকে দূরে থাকাই সবচেয়ে ভালো। কেনোনা এরকম বেশীরভাগ বিজ্ঞাপনই থাকে ভুয়া। সুযোগের সৎ ব্যবহার করে অর্থ হাতিয়ে নেয়াই প্রধান উদ্দেশ্য।
তবে কি ইনভেস্ট করে ইন্টারনেট থেকে আয় করা যাবে না? যাবে অবশ্যই। তবে ইনভেস্ট ধরন হতে হবে ভিন্ন। কি রকম?
ধরুন আপনি ইনভেস্ট করতেই চান। যাতে ইন্টারনেট থেকে অর্থ আয় করতে পারেন। তবে হয় কাজ শিখার জন্য অথবা নিজের একটি ওয়েবসাইট বানাতে বা অ্যাফিলিয়েশন করার জন্য প্ল্যাটফর্ম বানাতে ইত্যাদি কাজে ইনভেস্ট করুন। তবে যেখানেই ইনভেস্ট করতে যান না কেনো আপনাকে অবশ্যই ভালো ভাবে সেটার উপর রিসার্চ করতে হবে। জানতে হবে কোন সিস্টেম থেকে কি কি ভাবে ইনকাম করা যায়। কোন সিস্টেম কিভাবে ব্যবহার করতে হয়ে। সহায়ক কি কি লাগতে পারে ইত্যাদি খুঁটিনাটি।

কোথায় কোথায় ইনভেস্ট করতে পারেনঃ
  • ব্লগ বা ওয়েবসাইটঃ আপনি একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইট বানাতে বিনিয়োগ করতে পারেন। একটি ওয়েবসাইট বানাতে ডোমেইন (Domain), হোস্টিং (Hosting) এবং ভালো আর্টিকেল কিনতে আপনার ভালোই অর্থ বিনিয়োগ লাগতে পারে। সেই সাথে এসইও (SEO- Search Engine Optimization) করতে আরো কিছু বিনিয়োগ লাগবে। আর ওয়েবসাইট থেকে আপনি বেশ কিছু উপায়ে আয় করতে পারবেন। যেমন ব্যানার বিজ্ঞাপন, অ্যাডসেন্স (Google AdSense), গেস্ট ব্লগিং (Guest Blogging) ইত্যাদি। এ ব্যাপারে আমাদের পরবর্তী পোস্ট এ বিস্তারিত জানতে পারবেন।

  • ইউটিউব ভিডিওঃ ইউটিউব এর জন্য ভালো মানের ভিডিও তৈরি করতে বিনিয়োগ করতে পারেন। কেনোনা ইউটিউব এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিও ভিত্তিক বিনোদনমূলক ওয়েবসাইট। এখানে ভালো মানের ভিডিও এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। বিষয়ভিত্তিক ভিডিও আপলোড করে বিজ্ঞাপন দেখানোর মাধ্যমেও আয় করা সম্ভব। আবার বিভিন্ন কোম্পানির স্পন্সর হয়েও আয় করা সম্ভব। তবে ভিডিও বানাবার পাশাপাশি আপনার ভিডিও যাতে মানুষের কাছে পৌছাতে পারে সেজন্য মার্কেটিং করতেও আপনার কিছু বিনিয়োগ প্রয়োজন পড়বে।

  • ডোমেইন ওয়েবসাইট কেনা বেচাঃ নতুন বা পুরাতন ভালো মানের ওয়েবসাইট বা ডোমেইন কেনা বেচা করতেও বিনিয়োগ করতে পারেন। এটাও একটি লাভজনক ব্যবসা। তবে এই ব্যবসা করতে আপনাকে অবশ্যই অনেক ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বুঝতে হবে কোন ওয়েবসাইট কিনলে ভালো হবে, কোনটা কিনা ঠিক হবে না ইত্যাদি। তবে মনে রাখতে হবে সাথে সাথেই যে ওয়েবসাইটটি বিক্রি হিয়ে যাবে তার নিশ্চয়তা নেই। এটা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। ওয়েবসাইট কেনাবেচার জন্য জনপ্রিয় অনেক মার্কেটপ্লেস রয়েছে। এর ভিতর Flippa.com অনেক বেশী জনপ্রিয়।

  • ভিডিও গেমঃ বর্তমানে স্মার্টফোন এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। সেই সাথে বাড়ছে স্মার্টফোনের ভিডিও গেম এর চাহিদা। তাই ভালো মানের গেম তৈরি করে সেখান থেকে আয় করার পথও সুগম হচ্ছে। আপনি চাইলে একটি গেম বানাবার জন্য বিনিয়োগ করতে পারেন। তবে গেম হতে হবে আকর্ষণীয় এবং ব্যবহারকারীর চাহিদা অনুযায়ী। অর্থাৎ আপনাকে বুঝতে হবে গ্রাহক কি রকম গেম পছন্দ করে এবং সেই গেম এ কি কি থাকতে পারে। এরপর প্রফেশনাল গেম ডেভেলপার এর সহায়তায় আপনার গেম কে বাস্তবায়ন করে নিন।

  • অনলাইনে প্রোডাক্ট কেনাবেচাঃ আপনি অনলাইনে একটি ছোট স্টোর খুলেও আয় করার পথ তৈরি করতে পারেন। পাইকারি রেটে ভালো মানের কিছু প্রোডাক্ট এনে বিক্রয় করতে পারেন। সেই সাথে নিজের তৈরি করা প্রোডাক্টও বিক্রয় করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার স্টোর ওয়েবসাইট ভিত্তিক হলে ওয়েবসাইট বানাতে কিছু বিনিয়োগ লাগবে। সেই সাথে মার্কেটিংতো থাকছেই। আর সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ভিত্তিক হলে শুধু মার্কেটিং এই আপনাকে বিনিয়োগ করতে হবে। তবে প্রোডাক্ট এর বিনিয়োগ সম্পূর্ণই আলাদা। তা নির্ভর করবে সম্পূর্ণই আপনার উপর।

এছাড়া আরো অনেক ভাবে অনেক ক্ষেত্রেই বিনিয়োগ করা সম্ভব। অনলাইনে মুদ্রা কেনাবেচায় ট্রেড (ফরেক্স নামেই পরিচিত), বাজী ধরা এছাড়া আরো অনেক উপায় রয়েছে। যদিও আমরা এগুলোকে সাপোর্ট করি না বা বাংলাদেশের আইনে নিষিদ্ধ বলে এর সম্পর্কে বিস্তারিত আর লিখছি না। তবে যেখানেই বিনিয়োগ করছেন না কেন একটু ভেবেচিন্তে করবেন।

Professional Bangladesh Programmers Freelancers

Professional Bangladesh Programmers Freelancers


Ashraful S.'s avatar

Ashraful S.

Nodejs and JavaScript Developer.

$33.33 / hr
$100k+ earned
 
100% Job Success
 Bangladesh
To work as a part of a dynamic team where there will be opportunities to make significant contributions. The work environment should require innovations that wo ...
Node.js JavaScript  Ext JS jQuery 6 more
Tests: 9Portfolios: 12
Md S.'s avatar

Md S.

Web Developer (WordPress, Genesis, Rainmaker, Hubspot )

$40.00 / hr
$90k+ earned
 
98% Job Success
 Bangladesh
I have seven years experience of design & developing websites, prefer to use WORDPRESS (CMS) & GENESIS / RAINMAKER. But very comfortable with other framework. ...
PHP  WordPress  JavaScript HTML  6 more
Tests: 12Portfolios: 51
Md. Jewel P.'s avatar

Md. Jewel P.

Responsive Email Newsletter Developer

$25.00 / hr
$40k+ earned
 
100% Job Success
 Bangladesh
Looking for custom HTML email marketing templates? I'm ready to help you! I can develop HTML email template & my templates are supported by all major email cl ...
PSD to MailChimp MailChimp Marketo HTML  6 more
Tests: 9Portfolios: 24
muhammad a.'s avatar

muhammad a.

PHP, Opencart ,wordpress, codeigniter,Prestashop specialist

$22.22 / hr
$30k+ earned
 
95% Job Success
 Pakistan
I have developed a wide range of websites using HMTL, DHTML, PHP, and MySQL including sites for startup companies and small businesses. My core competency lies ...
PHP  WordPress  CodeIgniter CSS  4 more
Tests: 9Portfolios: 9
Laxmikanta N.'s avatar

Laxmikanta N.

Full Stack JAVA Developer,Wordpress,SPRINGMVC,PHP,HTML5,CSS3,MEANStack

$25.00 / hr
$20k+ earned
 
100% Job Success
 India
With over 7 years of experience in programming and over 5years of experience in web development. I can do anything you like, from basic webpage based on WordPre ...
WordPress  jQuery PHP AngularJS 6 more
Tests: 9Portfolios: 12
SOSBrand Media's avatar

SOSBrand Media

Website Development, Wordpress Customization, PSD to HTML / Bootstrap, Graphic Design, Branding

$35.00 / hr
$10k+ earned
 Indonesia
SOSBrand Media is a collection Web & Print design specialists that focus on crafting good communication for brands who wants a strong presence in the digital er ...
Website Development Web Design Twitter Bootstrap  WordPress  6 more
Thei Kevin S.'s avatar
Relevant agency member
Expert in Web Design/ Developer, Wordpress, Bootstrap, Graphic Design
Thy T.'s avatar

Thy T.

Wordpress/Joomla Master

$27.78 / hr
$100k+ earned
 
97% Job Success
 Vietnam
Hello, If you are looking for a full stack Wordpress/Joomla developer with ATTENTION TO DETAIILS MIND and in (X)HTML, CSS, Javascript, PHP, MySQL.. Wordpres ...
Joomla  WordPress  Magento  VirtueMart 6 more
Tests: 12Portfolios: 27Group: 1
Md A.'s avatar

Md A.

aaa111

$25.00 / hr
$2k+ earned
100% Job Success
 Bangladesh
Have more than 4+ years of Professional and freelancing experiences in Software and Game Developments, i attempts myself into newer technology,more challenging ...
C++ C# Java  PHP  6 more
Tests: 5Portfolios: 6

LOGO DESIGN https://www.fiverr.com/sis11223/do-minimalist-logo-design-in-3d clash of clans Busibess card